ফিউচার মার্কেটে মালয়েশীয় পাম অয়েলের দাম গতকাল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ পণ্যটির দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া ডালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (ডিসিই) অন্যান্য ভোজ্যতেলের ঊর্ধ্বমুখী দামও পাম অয়েলের দরবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের চুক্তিতে গতকাল পাম অয়েলের দাম বেড়েছে প্রতি টনে ৬৫ রিঙ্গিত বা ১ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ সময় ভোজ্যতেলটির টনপ্রতি মূল্য পৌঁছেছে ৪ হাজার ৮৯ রিঙ্গিতে (প্রায় ৯৮৩ ডলার ২৯ সেন্ট)।
সেলেঙ্গরভিত্তিক ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পেলিনডুং বেসতারির পরিচালক পরামালিঙ্গম সুপ্রামানিয়াম বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি ও আবহাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে পাম অয়েলের দাম বেড়েছে।’
ভারি বৃষ্টির কারণে মালয়েশিয়ায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে অন্তত ৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুই দেশে ১০ হাজারের বেশি মানুষ এখন জরুরি কেন্দ্রগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া অনেককে কয়েক দিন আটকে থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিসিইতে গতকাল সয়াবিন তেলের দাম ১ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
মুম্বাইভিত্তিক ব্রোকার কোম্পানি সানভিন গ্রুপের কমোডিটি রিসার্চ হেড অনিলকুমার বাগানি বলেন, ‘শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিতে সয়াবিনের দাম বেড়েছে। এছাড়া ডিসিইতে পাম অয়েলের বাজারদরও বেশি। এর প্রভাবে মালয়েশিয়ায়ও পণ্যটির দাম বেড়েছে।’
ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশন (জিএপিকেআই) জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়া গত সেপ্টেম্বরে ২২ লাখ টন পাম অয়েল ও পাম অয়েলজাত পণ্য রফতানি করেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ লাখ ৬০ হাজার টনের কম।
রয়টার্সের টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট ওয়াং তাও বলেন, ‘পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ৩ হাজার ৯৬৫ রিঙ্গিতের প্রতিরোধ স্তর অতিক্রম করেছে। এ কারণে পরবর্তী সময়ে তা টনপ্রতি ৪ হাজার ৭৬ থেকে ৪ হাজার ১০২ রিঙ্গিতের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।